২৩ অক্টোবর ২০২৬ , ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

চরমোনাইর মাহফিলের ঐতিহ্য বজায় থাকুক...

ইসলাম ডেস্ক | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ২৯-১১-২০২৫ ১০:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন
চরমোনাইর মাহফিলের ঐতিহ্য বজায় থাকুক...
চরমোনাইর পীর সাহেবের অনেক কিছুই আমার ভালো লাগে। বিশেষ করে শায়খে চরমোনাইর আপোষহীন দর্শন আমার পছন্দ। পীর সাহেব রহ. এর আমলেও মাহফিলে একাধিকবার যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। কাছে থেকে বহুবার দেখার সুযোগ হয়েছে বাংলার বৃহত্তম এই আধ্মাতিক মাহফিলের শান-শওকত, আমলী পরিবেশ, সত্বন্ত্রধারার ইসলাহী মেজাজ ও বৈশিষ্ট্য।

 
কিন্তু এবারের চরমোনাই মাহফিলের একটি বিষয় খুব খারাপ লেগেছে, এটি করা তাদের জন্য অনুচিত হয়েছে বলে আমি মনে করি। এই মাহফিলে আগে কখনো রাজনৈতিক আলাপ হতো না। দলীয় শ্লোগান উঠতো না। কিন্তু এবার সে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় রক্ষা করা হয় নি।

 
আবরারকে দেখলাম মাহফিলে হাতপাখার শ্লোগান দিচ্ছে। এটি ছিল চরম ছেলেমানুষী। মাহফিলে ইসলাহী বয়ানের বাহিরে মূল নেতৃত্ব থেকে বিএনপি নিয়ে মন্তব্যসহ নানান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী বক্তৃতা হয়েছে। এটি একেবারেই ঠিক হয় নি।
কারণ এই মাহফিলে বিএনপি, আওয়ামীলীগ, জামাত, মজলিস, জমিয়ত, জাসদ, তাবলীগ সহ নানান মতপথ ও রাজনৈতিক মতার্দশের লোকজন অংশ নিয়ে থাকেন। তাদের পরিবর্তন ও ইসালাহ হওয়ার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রস্থল। এই পথ বাকি থাকুক। জারি থাকুক হেদায়তের এই আলোকধারা। বন্ধ না হোক সর্বজনীন সকল মতপথের শুভাগমন।

 
এক সময় দেখতাম চরমোনাইর মাহফিলের মঞ্চ অনেক সম্মানের জায়গা ছিল। শীর্ষ আলেম ও দেশখ্যাত বুজুর্গরা কেবল উঠতেন, কথা বলতেন ও নসিহত পেশ করতেন। সাধারণ মানুষ ও আলেম উলামাদের আত্মার খোরাক হতো। আমি অধম নিজেও উপকৃত হয়েছি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে উলামা সম্মেলনে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেককে কথা বলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। আর এটি এবছর চরম পর্যায়ে অবনতি হয়েছে। শীর্ষ আলেমের বিপরীত এমন কিছু মানুষ কথা বলেছেন, যা এই ঐতিহ্যবাহী শানদার আধ্যাত্মিক মাহফিলের নূরে ঝলমল পরিবেশকে ম্লান করেছে।


 
চরমোনাইর রাজনৈতিক সেল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে আলাদা রাখা আর চরমোনাইর ইসলাহি মাহফিল ও খানকাকে আলাদা রাখা জরুরী ছিল। একজন হিতাকাঙ্ক্ষী ও আত্মীয় হিসাবে বলবো, চরমোনাইর রাজনৈতিক কার্যক্রম যখন খানকার মাহফিল ও মঞ্চ দখল করে নিবে তখন এর আবেদন এক সময় কমে যেতে পারে। একটি রাজনৈতিক দলের গন্ডিতে বাধা পড়বে।
চরমোনাইর ময়দানকে রাজনৈতিক বলয়ের বাহিরে রাখা এবং মাহফিলের আধ্যাত্মিকতার চিরচেনা ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখা একান্ত জরুরী। কারো ভিন্নযুক্তি কিংবা পরিস্থিতি বিবেচনায় কোন হেকমত বা কৌশল থাকতে পারে। বাংলাদেশের এই প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক স্থানকে সর্বজননী অরাজনৈতিক রাখা কতৃপক্ষের উপর আমানত বলে আমি মনে করি।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ